কানাইঘাটে ৪৯ কোটি টাকায় গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের ৩০ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের ৩০ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের দাওয়াদারী গ্রামসংলগ্ন এলাকায় এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই বাইপাস পয়েন্ট থেকে রাজাগঞ্জ পর্যন্ত গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরোনো বিভিন্ন প্রতিবেদনে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে রাজাগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথাও উঠে এসেছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপকভাবে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে। কানাইঘাটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের উন্নয়ন কাজ আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এ অঞ্চলের মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, এ সড়কের কাজ শুরু হবে। আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সকল দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সড়কের কাজের শুভ সূচনা করা হয়েছে।”
মন্ত্রী সড়কের কাজের গুণগতমান বজায় রাখার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ তদারকির আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদেরও উন্নয়নকাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা ও কানাইঘাট উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসসহ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে স্থানীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা ও স্থানীয় উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন এলাকাবাসী। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক। ইতোমধ্যে সিলেটে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে। কানাইঘাট তথা রাজাগঞ্জ এলাকার উন্নয়নেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নে সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজাগঞ্জ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির অন্যতম একটি এলাকা। তবে সেখানে আসার পথে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজাগঞ্জের উন্নয়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সহযোগিতা করবেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়ে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হয়। তাই রাজাগঞ্জসহ পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। রাজাগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সালসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় ছিল। ২০২৫ সালেও সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।