কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবকের লাশ ৩৯ ঘণ্টা পর হস্তান্তর
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার::
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক তারা মিয়ার লাশ ৩৯ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
লাশ হস্তান্তরের সময় বিএসএফের পক্ষে ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত এবং ৪৬ বিজিবির পক্ষে আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না ও ভারতের ইরানী থানার ওসি শ্রীকান্ত চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে গুলিতে নিহত হন তারা
জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে তারা মিয়াসহ কয়েকজন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় চোরাই পণ্য আনতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন।
এ সময় বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপন করেন। পরে বিএসএফ তারা মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ভারতের ঊনুকুটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে রাখে।
ওসির বক্তব্য
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ সোমবার বিকেলে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
‘টাকার লোভ দেখিয়ে ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়’
নিহত তারা মিয়ার মা আজিরুন্নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিল না। টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন লোক। তখন বাধা দিলে ছেলে কথা শোনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলল। আমার বুকটা খালি হই গেল।’
পতাকা বৈঠকে কড়া প্রতিবাদ বিজিবির
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দুই দেশের পতাকা বৈঠকের পর নিহত তরুণের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ-যুবক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে।