logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মৌলভীবাজার ০১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

স্বামীর সম্পত্তির অধিকার না পাওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী বিধবা রহিমা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন মৌলভীবাজার
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন
স্বামীর সম্পত্তির অধিকার না পাওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী বিধবা রহিমা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

স্বামীর সম্পত্তিতে নিজের ও সন্তানদের অধিকার ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এক প্রতিবন্ধী বিধবা নারী। শনিবার (১ আগস্ট) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ অভিযোগ করেন শহরের সুরভী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম।


সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম বলেন, ২০০৫ সালে শ্রীমঙ্গল শহরের সুইনগড় এলাকার হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার স্বামীর আরও দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।


তিনি জানান, বিয়ের পর সুরভীপাড়া এলাকায় চার শতক জমির ওপর নির্মিত একটি বাসায় স্বামীর সঙ্গে সংসার করতেন। ২০১৪ সালের মে মাসে তার স্বামী মারা যান। বর্তমানে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খাঁন তাকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা দিতেন। তবে ২০২৩ সালে সেই অর্থ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত রমজান মাসে মনজুর আলী খাঁন মারা যান।


রহিমা বেগমের অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন স্বামীর প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন তার সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এফিডেভিটের মাধ্যমে একটি ওয়ারিশনামা তৈরি করেছেন।


তিনি আরও জানান, গত ৩১ মে সকালে তার বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন সৎ ভাইদের বাসায় গেলে তারা তাকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং সম্পত্তি দাবি করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহদৎ আলী খাঁন, তাদের ভাতিজা ইমন ও জীবন তার ছেলে-মেয়েদের মারধর ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


এ ঘটনায় তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া সম্পত্তির বৈধ অধিকার নিয়ে আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান।


রহিমা বেগম বলেন, বিয়ের নিবন্ধন (কাবিননামা) না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলেরা তার সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টিকাকার্ড, পৌরসভার নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্রে হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনকে তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।


তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৫ সালে তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম পক্ষের তিন ছেলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তার স্বামী তিন ছেলেকে ত্যাজ্য করেছিলেন। অথচ তারাই এখন তার এতিম সন্তানদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে রহিমা বেগম বলেন, তিনি একজন প্রতিবন্ধী নারী। অনেক কষ্ট করে সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করছেন। স্বামীর সম্পত্তির প্রতি তার কোনো লোভ নেই, তবে তার সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে আইনগত ও ন্যায্য অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগমকে তার বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। তবে পরে তিনি বলেন, “রহিমা বেগম সত্যিই যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আমাদের কাছে আসুন। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16710
Page of