logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মৌলভীবাজার ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শেরপুরে চোরাচালানের ট্রানজিটে পুলিশের অভিযান, জব্দ প্রায় ৬ লাখ টাকার পণ্য

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন মৌলভীবাজার
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
শেরপুরে চোরাচালানের ট্রানজিটে পুলিশের অভিযান, জব্দ প্রায় ৬ লাখ টাকার পণ্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে একদিনে পৃথক দুই দফা অভিযানে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ। পৃথক দুই অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূলহোতারা এখনো অধরাই রয়ে গেছেন। জব্দকৃত এসব পণ্য সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় চোরাই পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায়ই বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালানের প্রকৃত মালিক ও সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিয়মিত অভিযান চললেও নেপথ্যের চোরাচালান নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাচ্ছে।


পুলিশ জানায়, রোববার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নম্বরবিহীন একটি ডিআই পিকআপ থেকে ১৮ কার্টন ভারতীয় আমুল বাটার, ৩ কার্টন ডেইরি মিল্ক চকলেট, ৯০ প্যাকেট কাভেরী মেহেদী এবং ১৮ প্যাকেট অরিও বিস্কুট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬১০ টাকা।


এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুরি গ্রামের আমিন মিয়া (২৯) এবং জৈন্তাপুর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার (৪৫)-কে।


প্রথম অভিযানের আলামত থানায় নিয়ে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৩টায় একই এলাকায় দ্বিতীয় দফা অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রো-১১-৪৬৬৭ নম্বরের একটি ডিআই পিকআপ থেকে ১৫ কার্টন আমুল বাটার, ৩ কার্টন গারনিয়ার ফেইসওয়াশ, ৯০ প্যাকেট কাভেরী মেহেদী, ১০ প্যাকেট অরিও বিস্কুট এবং ২০ প্যাকেট পন্ডস ক্রিম জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ টাকা।


এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোয়াইনঘাট উপজেলার ভিত্রিখেল গ্রামের ইয়ামিন খাঁন (২২)-কে। মামলায় চালানের মালিক হিসেবে গোয়াইনঘাটের লাখেরপাড় এলাকার মালেক (৩৫)-কে পলাতক আসামি করা হয়েছে।


এ বিষয়ে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, “সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা অবৈধ ভারতীয় পণ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার প্রথম অভিযানের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে আরও একটি চালান জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।”


এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শেরপুরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে শুধু বাহক বা পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না; বরং সিন্ডিকেটের অর্থদাতা, সংগঠক ও মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, মূলহোতারা ধরা না পড়লে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পণ্য আনার প্রবণতা বন্ধ হবে না।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16796
Page of