ছাতকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে চরবাড়ুকা গ্রামের গ্রাহকদের ক্ষোভ
ছাতক প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চরবাড়ুকা গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সেবার নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) চরবাড়ুকা পয়েন্টে শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক একত্রিত হয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, তাদের অনেকের বিদ্যুৎ বিল প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি আসছে। ফলে অতিরিক্ত বিলের বোঝা নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে দিনের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রাহকরা জানান, ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরাও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তারা আরও বলেন, নিয়মিত ও নির্ভুলভাবে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত, অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত বিলের তদন্ত, লোডশেডিং কমানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য নছিব আলী, রইছ আলী, ইঞ্জিনিয়ার নোয়াব আলী, মঞ্জুর মিয়া, সফিকুল হক, ছোরাব আলী, মনির উদ্দিন, মন্নান, গিয়াস উদ্দিন, তৌমুছ আলী, আনোয়ার হোসেন, লাক্কি মিয়া, লালি বেগম, কাওছার আহমদ, হাসান আহমদ, রিয়াজ উদ্দিন, এরশাদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, কবির আহমদ, দোলাল, আমজাদ আলী, মাসুক মিয়া, মিনহাজ উদ্দিন, ফজল উদ্দিন, সোহাগ মিয়া, দিলোয়ার হোসেন, মঈনুল হোসেন, আইজুল হক, আনছার আলী, বাতির মিয়া, ছানা উল্লাহ, কালাসা, মর্তুজ আলী, আরজু মিয়া, সজিব, জুবেল মিয়া, সাদিক মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, সাজু মিয়া, সেলিম মিয়া, বাতির আহমদ, রাজু মিয়া, আরজু (২), ইকরাম উদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, জমির হোসেন, জাবেদ আহমদ, শাহীন মিয়া, আব্দুল কাদির, মাসুক মিয়া, জামাল উদ্দিন, জাকার উদ্দিন, মাসাদুল, কালো মিয়া, বিলাল মিয়া ও আব্দুল জমিরসহ শতাধিক গ্রাহক।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গোবিন্দগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মির্জা কে. ই. তুহিন বলেন, “পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, “যেসব গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিক এসেছে, তারা অফিসে যোগাযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে বিল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে চরবাড়ুকা গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সঠিক ও নির্ভুল বিদ্যুৎ বিল প্রণয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।