logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:২১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
অবৈধভাবে হাট পরিচালনার অভিযোগে শেড অপসারণ, তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরাতে নির্দেশ; মালিকানার কাগজপত্র তলব

মেয়াদ শেষের দেড় মাস পরও চলছিল চিকনাগুলের অস্থায়ী পশুর হাট, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:২১ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:২১ অপরাহ্ন
মেয়াদ শেষের দেড় মাস পরও চলছিল চিকনাগুলের অস্থায়ী পশুর হাট, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাঁচ দিনের জন্য ইজারা দেওয়া অস্থায়ী পশুর হাট নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরও চালু থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।


বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চিকনাগুল বাজারের মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে নির্মিত গরু রাখার শেড অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাজার-সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া এবং বাজারের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


জানা গেছে, গত ২১ মে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈদুল আজহা উপলক্ষে চিকনাগুল বাজারে পাঁচ দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত পশু কেনাবেচার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকনাগুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মছদ্দর আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন-এর নামে হাটটির ইজারা নেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার কমিটির কয়েকজনের সমন্বয়ে হাটটি পরিচালিত হলেও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে কামাল আহমদসহ কয়েকজন নিয়মিতভাবে হাসিল আদায় করে আসছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাসিলের রসিদও দেওয়া হতো।


এ ঘটনায় উপজেলার স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অবৈধভাবে পরিচালিত এ হাটের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ পশুর হাটের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।


ঈদের সময়ের ইজারাদার ইকবাল হোসেন বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মছদ্দর আলী বলেন, “ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্থানীয়দের উদ্যোগে এ পশুর হাট পরিচালিত হয়ে আসছে। সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম জাকারিয়া ও আমিনুর রশিদের সময়েও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকার মধ্যে নিলামে হাট ইজারা দেওয়া হতো। বর্তমান চেয়ারম্যানও একইভাবে বাজার পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়া গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাঁচ থেকে সাত দিনের জন্য অস্থায়ী হাট পরিচালনা করে আসছেন।”


তিনি আরও বলেন, “আজ হঠাৎ করে প্রশাসনের অভিযানে আমাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভেঙে দেওয়া হলো। বাজারের একটি অংশের জমি রয়েছে, পাশাপাশি হাবিবনগর বাগান কর্তৃপক্ষও কিছু জমি দিয়েছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি স্থায়ী করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে, কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়ভাবে পরিচালিত বাজারের আয়ের একটি অংশ স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।”


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “অস্থায়ী পশুর হাটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাজার পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাজারের একটি অংশে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে এবং বাজারের মালিকানা ও বৈধতা সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


অভিযান চলাকালে উপজেলা সার্ভেয়ার আব্দুল লতিফ, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন, ইউপি সদস্য অহিদুর রহমান এবং পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16480
Page of