সরকারি প্রকল্পের বালু-মাটি নিয়ে লাখাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সুতাং নদী পুনঃখনন প্রকল্পের বালু ও মাটি নিয়ে অনিয়ম এবং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদী খনন থেকে উত্তোলিত বালু-মাটি বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভরাটে ব্যবহার করে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের “হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ ও দূষণমুক্তকরণ” প্রকল্পের আওতায় সুতাং নদীর কিলোমিটার ০.০০০ থেকে ৬.৫০০ পর্যন্ত মোট ৬.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেশনটেক কমিউনিকেশনস লিমিটেড। প্রকল্পের কাজের স্থান লাখাই খেয়াঘাট থেকে নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১০ কোটি ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৪ টাকা ৪২ পয়সা। খননের গড় গভীরতা প্রায় ২ মিটার এবং গড় প্রস্থ প্রায় ৪০ মিটার। কাজ শুরু হয়েছে ১ মার্চ ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার কথা ২০ জুন ২০২৭।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর উত্তোলিত বালু ও মাটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান কিংবা সরকারি স্থাপনায় বিনামূল্যে ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে তা বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কাজে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে একটি চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
লাখাই ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সোলেমান মিয়া এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমান উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপন লাখাই অভয়চরণ-রাধাচরণ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ফারুক মিয়া, সালাম চৌধুরীসহ কয়েকজনের জমিতে নদীর বালু-মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন। এছাড়া আমানউল্লাহপুর এলাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও ভরাট করা হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, লাখাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তোফাজল হক এবং উপজেলা যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আনফর আলী তালুকদারের জমিসহ ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বালু-মাটি ভরাট করা হয়েছে। এ কাজে প্রতি শতক হিসেবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, নদী খননের বালু-মাটি নিয়ে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপন। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো জমিতে মাটি ভরাট করিনি। বরং লাখাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তোফাজল হক ও তার সহযোগীরাই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বালু ফেলে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছেন।”
অন্যদিকে লাখাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তোফাজল হক চেয়ারম্যানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে মাটি ভরাট করি না। চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপনই এসব কাজ করছেন।”
এদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলামের অনুমতির কথা উল্লেখ করে এবং ড্রেজার ম্যানেজার ইমরান মিয়ার যোগসাজশে লাখাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে মাটি ভরাটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “নদী খননের বালু-মাটি নিয়ে কেউ অনিয়ম বা ব্যবসা করছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”