ধর্মপাশায় বেহাল সড়ক পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের দাবিতে অবরোধ
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কংস সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে পাইকুরাটি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের দাবিতে শনিবার দুপুরে আধা ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সিএনজিচালক, অটোরিকশাচালক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে ধর্মপাশা ও পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি আগে সুনামগঞ্জ সওজের অধীনে থাকলেও ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট থেকে এর দায়িত্ব নেত্রকোনা সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। বর্তমানে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি, পিকআপ ও ট্রাকসহ অন্তত ছয় শতাধিক যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছে।
অবরোধে অংশ নেওয়া রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা ফয়জে রাব্বী ও সিংপুর গ্রামের বাসিন্দা সেজু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বাধ্য হয়েই তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন বলেন, সড়কটির ৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কার ও মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। এর আগে বড় বড় গর্তগুলো ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়কটি পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থা এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগ সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে। স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আশা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করবে।