logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি, জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদী থেকে আবারও বালু উত্তোলনের অভিযোগ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি, জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদী থেকে আবারও বালু উত্তোলনের অভিযোগ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হাইকোর্টের নির্দেশনা ও স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় আবারও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, নতুন কসবাসহ কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে এবং পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।


এলাকাবাসী জানান, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে জালালপুর, খানপুর, পূর্ব জালালপুর ও নতুন কসবাসহ আশপাশের এলাকা রক্ষায় এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জালালপুর গ্রামের জাহির আলী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এর আগে একই দিনে ইন্টিগ্রিটি ল চেম্বার্সের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।


রিটের শুনানি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


অভিযোগ রয়েছে, আদালতের সেই নির্দেশনার পরও বর্তমানে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলৈতলী ও খানপুর মৌজার অংশে কুশিয়ারা নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।


এদিকে ইন্টিগ্রিটি ল চেম্বার্সের লিগ্যাল নোটিশের জবাবে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৪ মে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুহসিন উদ্দীনের ২১ মে ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— জগন্নাথপুর উপজেলার অংশে কুশিয়ারা নদীতে কোনো বালুমহাল নেই এবং এ এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কারও কোনো বৈধ অনুমতি নেই।


রিটকারী জাহির আলী বলেন, “কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা এবং অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো বালু উত্তোলন চলছে।”


তবে এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অংশে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি কোম্পানির তফসিলভুক্ত জায়গায় বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে।”


এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16436
Page of