logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ভূমি আইনের প্রয়োগে ২১ শতক জমি ফিরে পেলেন অভিজিৎ সরকার

ভূমি অপরাধ আইনে মিলল ন্যায়বিচার, জমি ফেরত পেলেন অভিজিৎ সরকার

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
ভূমি অপরাধ আইনে মিলল ন্যায়বিচার, জমি ফেরত পেলেন অভিজিৎ সরকার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর আওতায় প্রশাসনের সহায়তায় বেদখল হওয়া জমি ফেরত পেয়েছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘদিনের দখলবাজি ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে জমির প্রকৃত মালিক অভিজিৎ সরকারের কাছে ২১ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


শুক্রবার ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার রুহুল আমীন, পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সুখাইড় বাজার এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে নির্মিত টিনশেড দোকানঘর উচ্ছেদ করে মালিককে ১৮ শতক জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাকি আড়াই শতক জমিতে মালামাল থাকায় স্থানীয়দের অনুরোধে দখলদারদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকার পেয়ে তারা সন্তুষ্ট ও উচ্ছ্বসিত।


জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র সরকারের ছেলে অভিজিৎ সরকার ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দুটি পৃথক সাফ কবালা দলিলের মাধ্যমে সুখাইড় বাজার এলাকায় মোট ২১ শতক ভিটা জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ নামে নামজারি সম্পন্ন করে সরকারি খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে জমি ভোগদখলে ছিলেন।


অভিযোগ রয়েছে, একই বছরের ২৩ অক্টোবর ধর্মপাশা উপজেলার দিকজান গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি রাতারাতি ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখল নেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও দখলদাররা জমি ছাড়েননি। পরে জমির মালিক অভিজিৎ সরকার থানায় মামলা দায়ের করেন এবং আমমোক্তারনামার মাধ্যমে তাঁর শ্বশুর দীপু তালুকদারকে জমি দেখভালের দায়িত্ব দেন।


এরপর দীপু তালুকদার গত ১৪ মে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর প্রশাসন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্তদের একাধিক নোটিশ দেয়। পরবর্তীতে সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জমির মালিককে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।


অভিযোগকারী ও জমির মালিকের শ্বশুর দীপু তালুকদার বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের আন্তরিকতায় আমাদের জমি ফেরত পেয়েছি। বাকি আড়াই শতক জমিও এক সপ্তাহের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস পেয়েছি।”


ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দখলকারীদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। পরে সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট আড়াই শতক জমিতে মালামাল থাকায় দখলকারীরা এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। নির্ধারিত সময় শেষে বাকি জমিও মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”


উল্লেখ্য, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ বাংলাদেশে ভূমি জালিয়াতি, অবৈধ দখল ও প্রতারণা প্রতিরোধে প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি আইন। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়। এ আইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দেওয়ানি মামলার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকৃত মালিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16425
Page of