logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ১২ জুলাই ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

দিরাইয়ের জলাশয়ে নিষিদ্ধ সাকার ফিশের সন্ধান, দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১২ জুলাই ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১২ জুলাই ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন
দিরাইয়ের জলাশয়ে নিষিদ্ধ সাকার ফিশের সন্ধান, দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি

দিরাই  (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ‘সাকার ফিশ’ বা ‘সাকার মাউথ ক্যাটফিশ’-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। রোববার (১২ জুলাই) উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের উত্তর চান্দপুর গ্রামের এক জেলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি মৎস্য বিভাগের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিষিদ্ধ এ মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Hypostomus plecostomus। দক্ষিণ আমেরিকার স্বাদু পানির নদী-নালার এ আক্রমণাত্মক বিদেশি প্রজাতির মাছ অল্প অক্সিজেনযুক্ত ও দূষিত পানিতেও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে সক্ষম। দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এ মাছের চাষ, সংরক্ষণ, প্রজনন ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে।


জানা গেছে, আশির দশকে অ্যাকোয়ারিয়ামের শেওলা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে বাহারি মাছ হিসেবে বাংলাদেশে সাকার ফিশ আনা হয়। পরবর্তীতে অসাবধানতাবশত বা অন্য কোনো উপায়ে এটি উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সাকার ফিশ দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং খাদ্যের প্রতিযোগিতায় দেশীয় মাছের ডিম, রেণু ও খাদ্য খেয়ে ফেলে। এছাড়া এ মাছের পিঠ ও দুই পাশের ধারালো পাখনার আঘাতে দেশীয় মাছ গুরুতর আহত হতে পারে বা মারা যায়। জলাশয়ের পাড়ে গভীর গর্ত তৈরি করায় বাঁধ ও পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।


মৎস্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দূষিত পানি ও জলাশয়ের তলদেশে বসবাসের কারণে এ মাছের শরীরে ভারী ধাতু (হেভি মেটাল) ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ জমা হতে পারে। ফলে এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এছাড়া জেলেদের জালে আটকা পড়লে এর ধারালো পাখনায় হাত বা পা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।


মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, উন্মুক্ত বা বদ্ধ জলাশয়ে এ মাছ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ উপায়ে ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে শৌখিন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অ্যাকোয়ারিয়াম কিংবা হ্যাচারিতে এ মাছের লালন-পালন ও প্রজনন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।


এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সন্দিপন মজুমদার বলেন, “আমি দিরাইয়ে যোগদানের পর এই প্রথম এখানে সাকার ফিশের অস্তিত্বের খবর পেলাম। এটি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ একটি মাছ এবং এর শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।”


মাছটি কীভাবে দিরাইয়ের জলাশয়ে এলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি হয়তো কোনো প্রাকৃতিক উপায়ে বা অন্য কোনো মাধ্যমে এখানে এসেছে।” তিনি আরও জানান, মাছটি কেরোসিন দিয়ে মাটির নিচে পুঁতে নিরাপদভাবে ধ্বংস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নিষিদ্ধ এ মাছের সন্ধান পাওয়ায় দিরাইয়ের জলজ পরিবেশ ও দেশীয় মাছের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে নজরদারি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16416
Page of