রাস্তার বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড, অবশেষে গ্রেফতার দুই পলাতক আসামি
ওসমানীনগর প্রতিনিধি
সিলেটের ওসমানীনগরে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে সংঘটিত যুবলীগ কর্মী আব্দুস সামাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার আনন্দবাজার ও বৈদ্যেরবাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ওসমানীনগর থানার কিত্তে কমরপুর এলাকার আব্দুস জব্বারের ছেলে শাকিল মিয়া (২৪) এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)। তারা হত্যা মামলার যথাক্রমে ১ ও ৩ নম্বর আসামি।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, কিত্তে কমরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ মিয়া (২৮) এবং বিবাদীদের বাড়ি একই এলাকায় অবস্থিত। বিবাদীদের বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাদের পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে আসছিলেন।
গত ৫ মার্চ বিকেলে ভিকটিমের চাচা আব্দুল বারিক বাড়ি নির্মাণের ইট-বালু ওই রাস্তা দিয়ে আনার সময় বিবাদী রফিকুল ইসলাম ও সফিক মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ৬ মার্চ রাতে স্থানীয় মাসুক মিয়ার উঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে রাস্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিবাদীরা উত্তেজিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র—চাকু, ছুরি ও লোহার পাইপসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় আব্দুস সামাদ পরিবারকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে র্যাব-৯ (সিপিএসসি, সিলেট) এবং র্যাব-১১ (সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জ)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ ও ৩ নম্বর পলাতক আসামি শাকিল মিয়া ও রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।