হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ, শীর্ষস্থানীয় তালিকায় নাম
ঢাকা: সফল হজ ব্যবস্থাপনায় শীর্ষস্থানীয় তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিক উন্নতির পর এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ২০২৫ সালের সফলতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, বিগত ৪০ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালের হজকে “সেরা হজ” হিসেবে ঘোষণা করেছিল সৌদি সরকার। তবে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সেই অর্জনকেও অতিক্রম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ২০২৬ সালের হজকে “এক্সিডেন্ট ফ্রি হজ” বা দুর্ঘটনামুক্ত হজ হিসেবে ঘোষণা করেছে বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনাতেও এ বছরের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরেই হজ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যার ধারাবাহিকতায় এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম সেরা ব্যবস্থাপনা প্রদর্শন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
হজ সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার ভিসা ও টিকিট ইস্যু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। পাশাপাশি মক্কা, মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাত ময়দানে হজকর্মীদের সমন্বিত তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া হাজির সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের কারণে এবছর সেবার মান উন্নত হয়েছে এবং অভিযোগের সংখ্যাও কমেছে বলে জানানো হয়।
তবে গ্রুপ লিডার বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আসা কিছু হাজীর ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
হজ পালন শেষে মাদারীপুরের এক হাজী সাইফুজ্জামান বলেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত অনিয়ম বন্ধ করা গেলে সেবা আরও উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, চলতি বছরের সফল হজ ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক হজ ব্যবস্থাপনায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।