logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ১২ মে ২০২৬ ০৪:৫১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শিশু ফাহিমাকে সিগারেট আনতে পাঠিয়ে ধর্ষণ ও গলা টিপে হত্যা: গ্রেপ্তার চাচা জাকিরের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১২ মে ২০২৬ ০৪:৫১ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১২ মে ২০২৬ ০৪:৫১ অপরাহ্ন
শিশু ফাহিমাকে সিগারেট আনতে পাঠিয়ে ধর্ষণ ও গলা টিপে হত্যা: গ্রেপ্তার চাচা জাকিরের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

নিউজ ডেস্ক। 

সিলেটের সোনাতলা গ্রামে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মর্মান্তিক বিবরণ উঠে এসেছে। ৬ মে সকালে নিজ ঘরে একা পেয়ে চাচা সম্পর্কীয় জাকির ১০-১২ বছর বয়সী শিশু ফাহিমা আক্তারকে ২০ টাকা দিয়ে দোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠান। সিগারেট নিয়ে ফেরার পর নেশাগ্রস্ত জাকির তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং অজ্ঞান হয়ে পড়লে গলা টিপে হত্যা করেন।


মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাকিরের স্ত্রী তখন বাপের বাড়িতে ছিলেন। ফাহিমা চঞ্চল প্রকৃতির ছিলো এবং গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে বেড়াতো। দুই বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় সে জাকিরের ঘরে গিয়েছিল।


পুলিশ জানায়, হত্যার পর জাকির ফাহিমার মরদেহ দুই দিন নিজ ঘরের খাটের নিচে একটি ব্রিফকেসের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। পরে গন্ধ বের হলে রাতে খালে ফেলে দেন। এলাকাবাসীর চোখে পড়লে ঘটনা জানাজানি হয়। গত শুক্রবার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


**জাকিরের স্বীকারোক্তি:**

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জাকির বলেন, “সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনতে পাঠাই। আমি ইয়াবা খেয়ে নেশাগ্রস্ত ছিলাম। তখন মেয়েটার প্রতি খারাপ দৃষ্টি চলে যায়। রেপ করতে চাইলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে সুটকেসে রেখে দুইদিন পর রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।”


সোমবার দিনগত রাতে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যা ও ধর্ষণের বিষয় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে মামলায় নতুন ধারা যুক্ত করা হবে।


নিহত ফাহিমা স্থানীয় দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। তার মা বাদী হয়ে প্রথমে জিডি ও পরে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। জাকির গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন এবং তার বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার অধিকতর তদন্ত চলছে। এতে আর কেউ জড়িত থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।


এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু ফাহিমার মতো নিরীহ প্রাণের এমন নির্মম হত্যা সমাজের জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/15355
Page of