logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

সিলেট গ্যাস ফিল্ডসে উৎপাদন জোরদার, ৯ কূপে কার্যক্রম শুরু

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ন
সিলেট গ্যাস ফিল্ডসে উৎপাদন জোরদার, ৯ কূপে কার্যক্রম শুরু

অনলাইন ডেস্ক। 

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তির খবর এসেছে সিলেট থেকে। গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ৯টি নতুন কূপ থেকে উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করেছে।


কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯টি কূপের মধ্যে ৫টির খনন কাজ শেষ হয়েছে, বাকি ৪টির কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আরও ৮টি কূপে ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কার্যক্রমের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।


বর্তমানে কোম্পানিটি প্রতিদিন প্রায় ১৪২ থেকে ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সূত্র জানায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অধীনে থাকা হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রে মোট ৩৪টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৭টি কূপ থেকে উৎপাদন চলছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হচ্ছে। পুরোনো হয়ে যাওয়ায় বাকি কূপগুলো থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।


গ্যাসের পাশাপাশি কনডেনসেট উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সিলেট। কোম্পানির নিজস্ব উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানি শেভরন ও তাল্লো থেকে আরও ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট সরবরাহ হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৪,৫০০ ব্যারেল বিভিন্ন রিফাইনারিতে পাঠানো হয়।


রশিদপুর রিফাইনারিতে এসব কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে প্রতিদিন ৩,৩০০ থেকে ৩,৫০০ ব্যারেল পেট্রল, ৬০০–৭০০ ব্যারেল অকটেন, ১৫০–২৫০ ব্যারেল ডিজেল এবং ১০০–১৫০ ব্যারেল কেরোসিন উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব জ্বালানি পরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে সারাদেশে বিতরণ করা হয়।


জাতীয় জ্বালানি চাহিদা পূরণে সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের অবদানও উল্লেখযোগ্য। এখানকার উৎপাদিত জ্বালানি দিয়ে দেশের মোট পেট্রল চাহিদার ৩৩–৩৫ শতাংশ, কেরোসিনের ৭ শতাংশ, অকটেনের ৭–৮ শতাংশ এবং ডিজেলের ০.২–০.৩ শতাংশ পূরণ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নেওয়া এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14905
Page of