logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ২৭ মার্চ ২০২৬ ০২:০৪ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

পদ্মায় বাসডুবি: রাত ১টা পর্যন্ত ১৬ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ মার্চ ২০২৬ ০২:০৪ পূর্বাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ মার্চ ২০২৬ ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
পদ্মায় বাসডুবি: রাত ১টা পর্যন্ত ১৬ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত

ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০২৬:।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় রাত ১টা পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি।


বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে আসা ‘সৌভাগ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।


তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত বাসটি নদী থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে।


প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ১৬ মরদেহের মধ্যে ১১ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ। এছাড়া দুর্ঘটনার পর জীবিত উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।


দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আরেকটি কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


উদ্ধার অভিযান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান রাতভর অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরদিন দিনের আলোয় আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে এবং তা পরদিন প্রকাশ করা হতে পারে।


তিনি আরও জানান, মরদেহ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।


নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের স্থানীয় ইউএনও কার্যালয় অথবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


দুর্ঘটনাস্থলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।


চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14354
Page of