কান্নায় ভারী তারাগঞ্জের আকাশ, পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন
তারাগঞ্জ( রংপুর প্রতিনিধি)।
রংপুরের তারাগঞ্জে অসময়ের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আলু চাষিরা। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আলুর ক্ষেত এখন পানির নিচে। একদিকে পচন ধরায় ফসল হারানোর ভয় অন্যদিকে বাজারে পানির দরে আলু বিক্রি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার আলুর ক্ষেতগুলো বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বর হয়ে আছে। অনেক জায়গায় আলু উত্তোলনের সময় হলেও কাদা ও পানির কারণে শ্রমিক নামানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় আলু পানিতে ডুবে থাকায় মড়ক ও পচন ধরার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, এই সময়ে রোদ থাকার কথা থাকলেও অকাল বৃষ্টির ফলে তাদের সারা বছরের পরিশ্রম এখন বিফলে যাওয়ার পথে।
খরচ ১৬ টাকা, বিক্রি ৮ টাকায় ফসল হারানোর শঙ্কার পাশাপাশি যোগ হয়েছে চরম দরপতন।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ টাকা। বর্তমানে বাজারে এই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকায়।
অর্থাৎ, প্রতি কেজি আলুতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় অর্ধেক টাকা। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকেই কম দামে আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন যাতে অন্তত কিছু পুঁজি ফিরে পাওয়া যায়।
হতাশায় তারাগঞ্জের কৃষকরা উপজেলার ইকরচালী এলাকার এক ভুক্তভোগী কৃষক জানান,অনেক ধার-দেনা করে আলুর আবাদ করেছি। ভেবেছিলাম এবার লাভের মুখ দেখব। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সব তলায় গেল। এখন বাজারে যে দাম, তাতে লেবার খরচও উঠছে না। আমরা এখন বাঁচব কীভাবে?