জুলাই সনদ-গণভোট নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার!
অনলাইন ডেস্ক : জুলাই সনদ নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে সময় দিয়েছিল। গতকাল সোমবার সরকারের দেয়া সেই সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সরকারকে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বৃহস্পতিবার নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। না পেলে ১৩ নভেম্বর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দলগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারই তাদের দায়িত্ব ও এখতিয়ারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার দরজা সব দলের জন্যই খোলা রেখেছে, তবে নতুন কোনো আলোচনার আমন্ত্রণ এখনও আসেনি।’
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কয়েকজন উপদেষ্টা বৈঠকে বসে বর্তমান পরিস্থিতি ও বৃহস্পতিবারের উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করবেন। ৩ নভেম্বর দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে মতপার্থক্য মিটিয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই অচলাবস্থা দেশের গভীর কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন। ‘দলগুলো জুলাই সনদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। বল এখন সরকারের কোর্টে। কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তবে রাজনৈতিক দলগুলো এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘সব দল নয় মাস ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছে, কিন্তু বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করে বলেন, ‘দুই দলই শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছে। বিএনপি আগে ঐকমত্য কমিশন, জুলাই সনদ ও গণভোট—সবকিছুর সঙ্গেই একমত ছিল, এখন অস্বীকার করছে। জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি না থাকলে কোনো নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।’