বিয়ের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গোলাপগঞ্জের আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার
সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি জাহিদুল ইসলামকে (২২) নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানাধীন মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এসআরবি-৯-এর সদর দপ্তর, সিলেট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কালিকৃষ্ণপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে।
এসআরবি-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ২৪ বছর বয়সী নারীও গোলাপগঞ্জ উপজেলার কালিকৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সময় ওই নারী স্বামীর সংসারে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে জাহিদুল তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে প্ররোচিত করেন। তাঁর আশ্বাসে বিশ্বাস করে প্রায় ছয় মাস আগে ওই নারী স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন।
এরপর জাহিদুল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে সিলেট শহরসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর জাহিদুল ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে গোলাপগঞ্জের কালিকৃষ্ণপুর এলাকায় তাঁর মামা নজমুল মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে রাতে অবস্থানকালে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে ওই নারী বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদুল জানান, কয়েক দিনের মধ্যে তিনি প্রবাসে চলে যাবেন এবং দেশে ফিরে তাঁকে বিয়ে করবেন। তবে প্রবাসে যাওয়ার আগেই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য ওই নারী অনুরোধ করলে একপর্যায়ে জাহিদুল তাঁকে বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ১৫ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৭। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় মামলাটি করা হয়।
এসআরবি-৯ জানায়, আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তারা ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সদর কোম্পানি, সিলেট এবং এসআরবি-১১-এর সিপিএসসি, নরসিংদীর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।