logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মৌলভীবাজার ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:২১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

আট বছর পর চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, ভোট দেবেন প্রায় এক লাখ শ্রমিক

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:২১ অপরাহ্ন মৌলভীবাজার
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:২১ অপরাহ্ন
আট বছর পর চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, ভোট দেবেন প্রায় এক লাখ শ্রমিক

 দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। আগামী ২৮ নভেম্বর দেশের ২৩১টি চা-বাগানের প্রায় এক লাখ শ্রমিক এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনকে ঘিরে চা-বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি।


গত ৩০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। শ্রম অধিদপ্তরের অধীনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মহাপরিচালক মো. আবদুস সামাদ আল আজাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি জানানো হয়। শ্রীমঙ্গল শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মোহাব্বত হোসেনও নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৫ ও ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ৫, ৬ ও ৯ নভেম্বর একই সময়ে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। ১০ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ১১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ১১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে।


১২ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ ও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ নভেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ১৪ নভেম্বর বেলা ১১টায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।


তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হবে।


চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি চা-বাগানে ১৫ সদস্যের পঞ্চায়েত কমিটি, সাতটি ভ্যালিতে ভ্যালি নির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির চা-বাগানগুলো এ নির্বাচনের আওতায় রয়েছে। বাগানগুলো সাতটি ভ্যালিতে বিভক্ত—লস্করপুর, বালিশিরা, মনু-ধলাই, লংলা, জুড়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিভিন্ন পদে প্রায় ৬০০টি প্যানেল গঠনের প্রস্তুতির কথাও জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে রামভজন কৈরী, রাজু গোয়ালা ও পঙ্কজ কন্দের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে নিপেন পাল ও পরেশ কালিন্দীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।


এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও আদালত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনকে ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


চা-শ্রমিকদের কাছে এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, সময়মতো মজুরি পরিশোধ, শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। নির্বাচিত নেতৃত্ব এসব দাবি আদায়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শ্রমিকেরা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18579
Page of