আরিফুল হক চৌধুরীর ডিও পত্র থেকে গেজেট প্রকাশ, জৈন্তাপুর পৌরসভা গঠনে অগ্রগতি
জৈন্তাপুর :
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বহুল প্রত্যাশিত পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত পল্লী এলাকাকে শহর এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর আগে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও (D.O.) পত্র প্রদান এবং শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায়সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হয়।
জৈন্তাপুরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে একটি ডিও পত্র দেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায়সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এস. আর. ও. নং ২৮১-আইন/২০২৬ নম্বরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৪ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (১)-এর ক্ষমতাবলে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে জৈন্তাপুর পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে নির্ধারিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে অনূর্ধ্ব এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে সরকারের কাছে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জুলাইয়ের গেজেটটি ছিল শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায়সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন; তখনই এলাকাগুলোকে চূড়ান্তভাবে শহর ঘোষণা করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (৩)-এর অধীনে উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি করে সরকার তফসিলে বর্ণিত এলাকাগুলোকে শহর এলাকা ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এস. আর. ও. নং ৩৭০-আইন/২০২৬ নম্বরে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। এতে আইনের ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর ক্ষমতাবলে তফসিলে উল্লেখিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার, পিএইচডি।
যে ১২টি মৌজা শহর এলাকার অন্তর্ভুক্ত
সরকারি গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো—ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী।
অন্যদিকে, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো—কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর ও ভিত্রিখেল।
সব মিলিয়ে দুই ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত ভূমি এ ঘোষণার আওতায় এসেছে। গেজেটের তফসিলে মৌজাভিত্তিক জে. এল. নম্বর ও দাগ নম্বরের পরিসরও উল্লেখ করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নের উদ্যোগে মন্ত্রীর ভূমিকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অবদান রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। গেজেট প্রকাশের পর পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ।
জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম চালু হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর।