logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২০ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পদদলনে ৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নাকচ প্রশাসনের

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২০ অপরাহ্ন সর্বশেষ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২০ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পদদলনে ৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নাকচ প্রশাসনের

অনলাইন ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নাকচ করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তাদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এর পরই পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।


ঘটনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির এবং ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।


বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসপাতালের রেজিস্টারও যাচাই করা হয়েছে। তাতেও পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ মেলেনি। 


তিনি জানান, পাঁচজনের মৃত্যুর একটি তালিকার বিষয়ে যাচাই করে দেখা গেছে, তালিকায় থাকা একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবেও রোগীর মৃত্যু হতে পারে। তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর যে তথ্য ছড়িয়েছে, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করতে মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।


অগ্নিকাণ্ডের পর হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার। তাঁদের কারও হাত-পা কেটে যাওয়া কিংবা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান। তবে ধোঁয়ায় কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।


হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনদের একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়তে হয়েছে—এমন অভিযোগও ওঠে। এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে হাসপাতালে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। 


হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সাংবাদিকদের ওই রোগীকে সরাসরি দেখে তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।


তিনি জানান, জাহানারা নামে যে রোগীর নাম মৃতের তালিকায় দেওয়া হয়েছে, তিনি জীবিত এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তালিকার সঙ্গে বাস্তবতা মিলিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। 


এদিকে, আগুন লাগার পর আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁদের স্বজনরা। তাঁরা হলেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।


কুলসুম আক্তারের ননদ নাজমা আক্তার জানান, কুলসুম ১২ দিন ধরে জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিমও ছিলেন। আগুন লাগার পর সবাই ছোটাছুটি শুরু করলে কুলসুম ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হলেও তিনি মারা যান বলে স্বজনের দাবি। 


অন্যদিকে, শাহাজাহান মনির প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় যক্ষ্মার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে পলাশ মোল্লার দাবি, আগুন লাগার সময় তাঁর বাবা, মা ও খালা একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তাঁরা পড়ে যান। পরে শাহাজাহানের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানও ছয়জনের মৃত্যুর কথা শোনার কথা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 


ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে।


ঘটনার পর মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং অগ্নিকাণ্ডের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরই প্রকৃত মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। 

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17641
Page of