logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত বনানীতে গ্রেপ্তার হাজী স্বপন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত বনানীতে গ্রেপ্তার হাজী স্বপন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতকে জনতার হাতে মারধরের পর পুলিশ হেফাজতে নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন মিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ওসি প্রত্যাহারের দাবির মধ্যে রাজধানীর বনানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাকে ছাতক থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ছাতক শহরের তাহির প্লাজার সামনে আসেন হাজী স্বপন মিয়া। এ সময় স্থানীয় শতাধিক মানুষ তাকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে ছাতক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।


সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি পাহারায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


এরপর হাজী স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না কিংবা কোথায় আছেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।


এ অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় ছাতক পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সমাবেশ থেকে ওসি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হাজী স্বপন মিয়াকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।


বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে আইন প্রয়োগে ভিন্নতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবিও জানান তারা।


মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর জসিমউদ্দীন সুমেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সালমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাকি বিল্লাহ এবং উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল আলীম।


এ সময় ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানিমুল ইসলাম তানিম, সাবেক পৌর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুনেম মামনুন, পৌর যুবদলের সদস্য নোমান ইমদাদ কানন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুল বাকী মুহিত, বিএনপি নেতা জাহির উদ্দিন দিনান, গোলাম দস্তগীর জীবন, ঝুমন আহমেদ, সোনা আলী, সিফাত, তানভীর, ঈদরাকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


অভিযোগের বিষয়ে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে সোমবার রাতে থানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বনানীর হোটেল থেকে গ্রেপ্তার


এদিকে, পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ও ওসি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভের মধ্যেই রাজধানীর বনানী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে হাজী স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, ছাতক থানার মামলা নম্বর-২৮, তারিখ ২২ জুলাই ২০২৫-এর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫-ডি ধারার উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


পুলিশের নথি অনুযায়ী, স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় আরও দুটি মামলার তথ্য রয়েছে। তবে এসব মামলার বিচারিক অবস্থাসহ অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


স্থানীয়ভাবে হাজী স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, মামলা-হামলায় হয়রানি, চাঁদাবাজি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, টেন্ডারবাজি, সীমান্তে চোরাচালান এবং নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাজী স্বপন মিয়ার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।


এদিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগটি সঠিক নয়; বরং মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


ফলে জনতার হাতে আটক, পুলিশ হেফাজতে নেওয়া, পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, এ নিয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন ও ওসি প্রত্যাহারের দাবি এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকার বনানী থেকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হাজী স্বপন মিয়াকে ঘিরে গত দুই দিনের ঘটনাপ্রবাহে নতুন মোড় এসেছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17656
Page of