সিলেটে কাভার্ড ভ্যানে ডাকাতি: প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১
সিলেট :
সিলেটের মোগলাবাজারে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান গতিরোধ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুটের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন আব্দুল আহাদ (৩০)। তিনি সিলেটের মোগলাবাজার থানার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব-৯ জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর রাতে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা এলাকায় অবস্থিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের শাখা অফিস থেকে বিভিন্ন গ্রাহকের আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল একটি কাভার্ড ভ্যানযোগে সিলেটের চণ্ডীপুলস্থ ডিস্ট্রিবিউশন অফিসের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। ভ্যানটিতে চালক মো. আরাফাত হাসান (২৪), হেলপার মো. সোহাগ মিয়া (২০) ও সুমন আহমেদ (৩৫) দায়িত্বে ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে কাভার্ড ভ্যানটি মোগলাবাজার থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার রয়েল সিটি আবাসিক এলাকার গেটসংলগ্ন সিলেট–ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি এসে ভ্যানটির গতিরোধ করে।
এ সময় নোহা গাড়ি থেকে ৬–৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নেমে চালক ও হেলপারদের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে কাভার্ড ভ্যানের কনটেইনারের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারযোগে আরও ৬–৭ জন ঘটনাস্থলে এসে কনটেইনারের দরজা খুলে ভেতরে থাকা বিভিন্ন গ্রাহকের পোশাক, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ আনুমানিক ২০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে দ্রুত সিলেট শহরের দিকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের সিলেটের ইনচার্জ রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দায়ের করা হয় এবং এতে দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার পর অজ্ঞাতনামা আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে র্যাব-৯ সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি অভিযানিক দল দক্ষিণ সুরমা থানাধীন হুমায়ুন চত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল আহাদ (৩০)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনাটির পর মোগলাবাজার থানা পুলিশের অভিযানেও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আব্দুল আহাদকে গ্রেপ্তারের তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।