logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
হবিগঞ্জ ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ, পুনঃস্থাপন ও তদন্তের দাবি

মাধবপুরে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ন হবিগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ন
মাধবপুরে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে অপসারণ করা ছবিগুলো পুনরায় স্থাপন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার মুরালাকৃতির ছবি স্থাপন করা ছিল। সম্প্রতি, প্রায় এক মাস আগে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলোকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বদলি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জাতীয় চার নেতার ছবি মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।


বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”


এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতারাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা জাতীয় চার নেতার ছবি পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি কেন এবং কী প্রক্রিয়ায় ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান।


এদিকে মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. অলিদ মিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আবেগঘন এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন করেন, “ছবিগুলো কি খুব সমস্যা করছিল এই সরকারকে?”


তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেসব জাতীয় নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। ঐতিহাসিক নেতাদের ছবি মুছে ফেলার সংস্কৃতি চালু থাকলে সময়ের ব্যবধানে সবাই এই অপসংস্কৃতির শিকার হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


তবে এ বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটেও মো. মেহেদী হাসানকে বর্তমান ইউএনও হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় নেতাদের স্মৃতি সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17279
Page of