logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মূল্যায়ন ও নিলাম প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

ছাতকে ৪৩৪ গাছের নিলাম নিয়ে প্রশ্ন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
ছাতকে ৪৩৪ গাছের নিলাম নিয়ে প্রশ্ন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তকিপুর জামে মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত নিলামে বিক্রি করা ৪৩৪টি গাছের মূল্যায়ন, কাঠের পরিমাণ, নিলাম প্রক্রিয়া, চিহ্নিত স্থান ও নির্ধারিত মূল্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ ছাতক উপজেলা কমিটি।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো. দিলোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার।


আবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নিলামের জন্য নির্ধারিত এসব গাছের নিলাম কার্যক্রম গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাস্তবায়ন করা হয়। তকিপুর জামে মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে বন বিভাগের চিহ্নিত ৪৩৪টি গাছ ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। নিলামটি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নিলাম করা ৪৩৪টি গাছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট কাঠ এবং ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ রয়েছে। গাছগুলোর মধ্যে রেইনট্রি, মেহগনি, আকাশমণি, শিশু, জাম, পিটালি, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, গামারি, কড়ই, চাম্বুল, বাবলা ও কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।


সংগঠনটির দাবি, গাছের প্রজাতি, বয়স, আকার, কাঠের পরিমাণ ও জ্বালানি কাঠের পরিমাণ বিবেচনায় সরকারি মূল্যায়ন যথাযথভাবে করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার নিলামমূল্য বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।


আবেদনে আরও বলা হয়, নিলাম প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রতিযোগিতা ও সর্বোচ্চ উপযুক্ত দর নিশ্চিত হয়েছিল কি না, নিলাম এলাকার নির্ধারিত সীমা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী গাছ কাটা হচ্ছে কি না এবং চিহ্নিত এলাকার বাইরে কোনো গাছ কাটা হয়ে থাকলে তা বন্ধ করতে হবে।


সংগঠনটি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় গাছ কাটা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি গাছ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের সরকারি ও উপকারভোগীদের অংশ যথাযথভাবে নির্ধারণ ও বণ্টন এবং নিলামসংক্রান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন, গাছের তালিকা, কাঠ ও জ্বালানি কাঠের পরিমাণ এবং নিলামমূল্যের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।


লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তে কোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, স্বার্থসংশ্লিষ্টতা কিংবা সরকারি সম্পদের আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


তবে গাছ নিলামে অনিয়ম হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে ছাতকের ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌস জানিয়েছেন, সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের জন্য সুষ্ঠু নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো নিলাম দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, গাছের নিলাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, নিলাম মূল্যায়ন ও পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হবে।


সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বিষয়টির একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন।


আবেদন প্রদানকালে সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্য জামিল হোসেন, দিলোয়ার হোসেন জয়, কেএমএ বাসিত, শিব্বির আহমদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, এর আগে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের ওই অংশে ৪৩৪টি গাছ নিলামে বিক্রি ও কাটা শুরু হওয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17285
Page of