রাত পোহালেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন
ডেস্ক নিউজ :
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। তাই সুন্দর একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সিইসি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এমন একটি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারা তাঁর জন্য ভাগ্যের ব্যাপার।
তিনি বলেন, দেশবাসী, পুরো জাতি ও বিশ্ববাসী জানে—দেশে একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালের পর দেশে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয় উভয়কেই দীর্ঘ সময় পর এ ধরনের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অনুশীলন ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে নির্বাচন পরিচালনার কার্যক্রমকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আলাদা করে সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই; নির্বাচনের জন্য একটি বৈঠক আহ্বান করলেই হবে। সেই বৈঠকে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
সিইসি আরও জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দিলে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোট গণনার সময়ও লাইভ সম্প্রচার থাকবে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে চলে যাবেন এমন নয়; তাঁরা ভোট গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।
ভোট গণনা শেষে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, কতটি ভোট বাতিল হয়েছে বা নষ্ট হয়েছে—এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে এবং পরে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।