logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৩ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে সবুজ রূপান্তর ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সই হলো সমঝোতা স্মারক

সার্কুলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের নতুন যাত্রা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৩ অপরাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
সার্কুলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের নতুন যাত্রা

ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।


এই সমঝোতার মাধ্যমে টেক্সটাইল মূল্যশৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সোমবার (১৭ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘MoU Signing on Cooperation in the Field of Circular Economy’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।


অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা যেহেতু বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত, তাই এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস ও টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সার্কুলার অর্থনীতি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন চাহিদা মোকাবিলার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, শিল্পখাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমঝোতা স্মারকে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।


নেদারল্যান্ডস সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারত্ব টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে।


দুই দেশের মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চুক্তি


সমঝোতা স্মারকটি বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের Ministry of Economic Affairs and Climate Policy-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।


বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ বিষয়ক মন্ত্রী Stientje van Veldhoven। দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।


নেদারল্যান্ডসের ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ মন্ত্রী Stientje van Veldhoven বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে কোনো দেশ এককভাবে এ রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না। পুরো সরবরাহশৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


তিনি বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনাকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনে নতুন সুযোগ


এ সমঝোতার ফলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


একই সঙ্গে টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের মতো কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পখাতকে জলবায়ু সহনশীল এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপযোগী করে তুলতে সহায়তা করবে এ অংশীদারত্ব।


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে সার্কুলার অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেছেন, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। 


অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17045
Page of