নবীগঞ্জে দুই ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের সড়ক বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
বুলবুল আহমেদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়ন ও ৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বনগাঁও, পাহাড়পুর, কুমারকাদা, দুর্গাপুর ও ইসলামপুরসহ আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, শেরপুর-পারকুল, বনগাঁও, পাহাড়পুর ও দুর্গাপুর এলাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলায় ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে বিকল্প একটি সড়কের অবস্থাও নাজুক থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও হাঁটুপানির মতো কাদা থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
ইটসলিং সড়ক নিয়েও তৈরি হয় সংকট
এ অবস্থায় পারকুল গ্রামের নিকটবর্তী সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের পেছনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যভাগ দিয়ে যাওয়া একটি ইটসলিং সড়ক নিয়েও সংকট তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের উদ্যোগে স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সামিট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও সড়কটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
তবে পরবর্তীতে ওই সড়কে কয়েকজন ব্যক্তি খুঁটি স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলাচল বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেনি বলে স্থানীয়রা জানান।
ফলে বনগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ যোগাযোগ সংকটে পড়েন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কে প্রতিবন্ধকতার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি যানবাহন চলাচলেও সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থ কিংবা মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত এলাকার বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ
বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়া জানান, তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তবে পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। সেখানে গেলে তাকে গালাগালির শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা কাওছার মিয়া জানান, তিনিও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
বর্তমানে সড়ক উন্মুক্ত, স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখার আশ্বাস
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিলে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সড়কটি উন্মুক্ত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামিটের দায়িত্বশীলরা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন, সড়কটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। একই সঙ্গে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কটি পুরোপুরি ও স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি আবারও জনসাধারণের চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে মানববন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সংবাদ প্রকাশের পর গণমাধ্যমকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ
এদিকে, সড়ক নিয়ে জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ফাহাদ আহমদ সংবাদ প্রকাশ করার পর তাকে বিভিন্ন ফেইক আইডি থেকে মানহানিকর বক্তব্য ও প্রচারণার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, এসব ফেইক আইডি শনাক্ত করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের হয়রানি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মীরা জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকার প্রতিবাদী সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কটি ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়া উন্মুক্ত রাখা হবে এবং দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।