মাধবপুরে সংসদ সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, দুই আইডির বিরুদ্ধে জিডি
লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
ফেসবুকে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্পোদ্যোক্তা সৈয়দ মো. ফয়সলকে নিয়ে কথিত মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৭ আগস্ট রাতে মাধবপুর উপজেলা জাসাসের সাবেক আহ্বায়ক কায়েস আহমেদ সালমান বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় জিডি নং-৪৬৭ দায়ের করেন।
জিডিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত দুটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ‘এক দেশ প্রেমিক’ ও ‘মো. জীবন হোসেন’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাদীর দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং একজন জনপ্রতিনিধির দীর্ঘদিনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জিডির বাদী কায়েস আহমেদ সালমান বলেন, একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার এমন অপচেষ্টা রোধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। তাদের ভাষ্য, সৈয়দ মো. ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং মাধবপুরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে।
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, মাধবপুর ও চুনারুঘাটের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সৈয়দ মো. ফয়সলের অবদান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত অপপ্রচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে।
চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হোসেন বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কারও সম্মানহানি করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জিডি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পাভেল আহমেদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ ও সাইবার আলামত যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।