আমিরাতে প্রবাসীদের ভিসা সংকট নিরসনে কাজ করছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
ডেস্ক নিউজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসা বাতিল হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ভিসা বাতিল হওয়া প্রবাসীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি বাতিল হওয়া প্রবাসীদের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির কাজও চলছে।
মন্ত্রী বলেন, এখনো ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কারণ অনুসন্ধান চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাইয়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি সিআইপি, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী ব্যবসায়ীদের শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রী। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সিআইপি প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
ভিসা জটিলতা নিরসনে যৌথ কূটনীতির ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময় থেকে ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট ও এমপ্লয়মেন্ট ভিসা এবং এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ভিসা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আরোপিত কড়াকড়ি ও স্থবিরতার বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে।
যৌথ কূটনীতি ও সর্বোচ্চ সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভিসা সংকট দ্রুত নিরসনে মন্ত্রণালয় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে দুবাই সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সিআইপি ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভিসা জটিলতা নিরসনে সম্পূরক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
দেশে প্রবাসী বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধার আশ্বাস
দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা হাই-টেক পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, প্লট বা অবকাঠামো বরাদ্দে বিশেষ কোটা এবং কর ছাড় সুবিধা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ফাইলিং ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল ও দ্রুত সেবা’ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রবাসীদের স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় আইন-কানুন, প্রথা ও বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলতে সাধারণ প্রবাসীদের সচেতন করার জন্য সিআইপিদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সংবেদনশীল বিষয় বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ছবি-ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ কিংবা এআই-এর অপব্যবহার করে নেতিবাচক প্রচার থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পাশাপাশি কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক আচরণে জড়িয়ে না পড়তে প্রবাসীদের সচেতন করতে কনস্যুলেট ও মিশনের সঙ্গে যৌথভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।
হুন্ডি বন্ধ করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান
রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধ করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠাতে সিআইপি ব্যবসায়ীদের অধীনস্থ কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি জানান, অতি দ্রুত সর্বজনীন ও স্বচ্ছ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী ও অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসাসেবা এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ প্রেরণের সুযোগ নিশ্চিত হবে।
এ ছাড়া প্রবাসীদের যাতায়াতে টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙা এবং যুক্তিসঙ্গত বিমান ভাড়া নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি-প্রস্তাব
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাইয়ের প্রতিনিধি দল ভিসা চালুর বিষয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদেশগমনেচ্ছু কর্মীদের মানোন্নয়ন, প্রবাসী কার্ড নিশ্চিতকরণ, সরকারি খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনা, দেশের হাসপাতালে প্রবাসীদের সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা, প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করার দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এ ছাড়া ড্রাই ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং দেশে বিনিয়োগের মুনাফা বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও তারা প্রস্তাব দেন।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি এর আগেও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছিল, ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।