দলিল নেই, তবুও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা!
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে দলিলপত্রবিহীন ব্যক্তিদের ‘ভূমিদাতা সদস্য’ বানিয়ে পকেট কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিদ্যালয় দখলের প্রতিযোগিতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ধরনের অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে গত ৮ জুলাই চান্দাইরপাড়া এলাকার নজির মিয়া এবং ১৯ জুলাই তেঘরিয়া এলাকার শেখ খালেদ আহমেদ বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক অভিযোগ করেছেন। এর আগে গত ৪ মে গৌরীনাথপুর এলাকার আহমদ আলীও একই বিষয়ে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালজুর ইউনিয়নের চান্দাইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গৌরীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি না দিয়েও কয়েকজনকে ‘ভূমিদাতা সদস্য’ মনোনীত করার অভিযোগ উঠেছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভূমিদাতাকে বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাতা সদস্য মনোনয়ন নিয়ে একই ধরনের জটিলতা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, জমি না দিয়েও কেউ যদি ‘ভূমিদাতা সদস্য’ হয়ে যান, তাহলে প্রকৃত ভূমিদাতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়। তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব পকেট কমিটি অনুমোদন না দিয়ে বিধি অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল মিয়া বলেন, “বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে এলাকার মানুষের কথা ও আবেগের কারণে ইশা আনছারীকে দাতা কমিটিতে যুক্ত করেছি। এটা করা আমার উচিত হয়নি।”
চান্দাইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, “প্রকৃত ভূমিদাতাকেই সদস্য করা হয়েছে।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
পশ্চিম গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলেখা বেগম বলেন, “শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “লিখিত অভিযোগের ব্যাপারটি আমার জানা নেই। তবে টিও স্যারকে দেওয়া হতে পারে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ বলেন, “তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”