জকিগঞ্জে বৃদ্ধ নারীর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রাম থেকে হাসনা বেগম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধ নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় সন্দেহ ও নানা আলোচনা তৈরি হলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
নিহত হাসনা বেগম উত্তরকুল গ্রামের মৃত আব্দুল মুমিনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের রক্ষীরারচক গ্রামের মাওলানা ফুজায়েল আহমদ তাঁর কিশোরী মেয়েকে নানাবাড়ি উত্তরকুল গ্রাম থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যেতে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েকে নিয়ে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর ফুজায়েল আহমদের শাশুড়ি হাসনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে, মারামারিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসনা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু বলেন, মারামারির ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহজনক। তিনি লোকমুখে জেনেছেন, হাসনা বেগম আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সকাল ৮টার দিকে নাতনিকে তাঁর বাবা নানাবাড়ি থেকে নিয়ে যান এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর হাসনা বেগম মারা যান। এরপর ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ফুজায়েল আহমদের কিশোরী মেয়ে নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল এবং কথিত এক কবিরাজের ফাঁদে ছিল বলে তিনি শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোববার সকালের ঘটনা বলে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি প্রকৃতপক্ষে প্রায় এক বছর আগের বলে তাঁর দাবি।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একজন নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন ওঠায় হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের মেয়ে নাসিমা বেগম অভিযোগ করেছেন, তাঁর মা বৃদ্ধা হাসনা বেগমের জামাতা মাওলানা ফুজায়েল আহমেদের লাথির আঘাতে মারা গেছেন। তবে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ভিডিওটি সাম্প্রতিক ঘটনার নয়, বরং পুরোনো হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বজনরা সকালে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলেও ভিডিওটি রাতে ধারণ করা বলে মনে হচ্ছে। সবমিলিয়ে পুরো ঘটনাটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।