দোয়ারাবাজারে হত্যা-পরবর্তী লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ: চার মাস ধরে ভিটেমাটি ছাড়া ৬ পরিবার
স্টাফ রিপোর্টার, দোয়ারাবাজার:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দেওয়াননগর গ্রামে বিলাল আহমদ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি এবং বাড়িতে বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে গত চার মাস ধরে ছয়টি পরিবারের সদস্যরা নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ গরুর জন্য ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দেওয়াননগর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল গফফারের ছেলে বিলাল আহমদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং একজন জামিনে মুক্ত আছেন। হত্যাকাণ্ডের পর পুরুষশূন্য বাড়িগুলোতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মছরব আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম অভিযোগ করেন, পুরুষ সদস্যরা অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একই গ্রামের সুনুর মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক তাঁদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে খাট, আলমিরাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া তাঁদের ২৬টি গরু এবং তইজুল মিয়ার খামারের ৩০০টি হাঁস লুট করা হয়। পরবর্তীতে গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁর এবং সুজন মিয়ার বসতঘরে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লুট হওয়া ২৬টি গরুর মধ্যে পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের নতুন কৃষ্ণনগর গ্রাম থেকে ইউপি সদস্য শাহীন মেম্বার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৬টি গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া পলিরচর গ্রামের ইউপি সদস্য ছমির উদ্দিন আরও ৪টি গরু উদ্ধারের উদ্যোগ নিলেও রাতের আঁধারে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এখনো ২০টি গরু এবং অন্যান্য লুট হওয়া মালামালের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম দেওয়াননগর গ্রামে গেলে বাদীপক্ষের উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সেখানে অবস্থানরত নারীদের নৌকাযোগে গ্রাম থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে।
মিনারা বেগম বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ। ঘরে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। সন্ত্রাসীরা সব লুটপাট করে ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে। চার মাস ধরে আমরা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছি না। বাড়িতে ফিরলে হত্যা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানান, বিচার চেয়ে আদালত এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর মধ্যে একটি দোয়ারাবাজার থানা এবং অন্যটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সুনুর মিয়া। তিনি বলেন, “আমরা কারও ঘরে আগুন দিইনি। তারা নিজেরাই ঘর পুড়িয়ে আমাদের হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করেছে। গরু উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আমি নিজেই সহযোগিতা করেছি।”
এ বিষয়ে ডিবির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুর রহিম বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।