ঘোষণার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্যমুক্ত সিলেট, নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন সিসিক প্রশাসক
নিউজ ডেস্ক।
পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত নগরীতে পরিণত করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নিরলস পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঈদের দিন বিকেল ৬টার মধ্যেই নগরের সব ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি এ সফল কর্মযজ্ঞে সহযোগিতার জন্য নগরবাসী, সাংবাদিক এবং সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, ঈদ ও ঈদের পরদিন মিলিয়ে দুই দিনে সিলেট নগরীতে প্রায় ২৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এসব কোরবানির বর্জ্য ছাড়াও নগরের একটি স্থায়ী ও পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট এবং বিভিন্ন অবৈধ হাটের বর্জ্যও অপসারণ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন বর্জ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সফল করতে সিসিকের পক্ষ থেকে কোরবানিদাতাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ এবং ৫ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নাগরিক সেবায় সার্বক্ষণিক চালু ছিল বিশেষ হটলাইন।
সিসিকের সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিনরাত কাজ করে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। বর্জ্য পরিবহনে সিসিকের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়ায় আনা আরও ৫৫টি ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করা হয়। প্রশাসক ও সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদারকি করেন।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য থাকলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশন তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই নগরীকে পরিচ্ছন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "নির্ধারিত স্থানে কোরবানি, বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ায় নগরবাসীর দায়িত্বশীল ভূমিকা এই সফলতার অন্যতম কারণ।"
তিনি নগরবাসী, সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।