logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ১১ মে ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান, নির্বাচিত ৮০ কাউন্সিলর

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১১ মে ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১১ মে ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান, নির্বাচিত ৮০ কাউন্সিলর

অনলাইন ডেস্ক। 

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার বরো—টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম—মিলে ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য।


এবারের নির্বাচনে লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে তিন শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, বড় দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকেও বাংলাদেশি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।


সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটসে। ৪৫ সদস্যের কাউন্সিলে এসপায়ার পার্টি ৩৩টি আসনে জয় পেয়ে রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচিত এই ৩৩ জনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। এ ছাড়া তিনজন লেবার পার্টি এবং একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি–এর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।


একই সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। তিনি ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম–কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।


অন্যদিকে নিউহামেও বাংলাদেশি প্রার্থীরা বড় সাফল্য পেয়েছেন। নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের মধ্যে ১২ জন নিউহাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি থেকে, ছয়জন লেবার পার্টি থেকে এবং একজন গ্রীন পার্টি–এর হয়ে জয় পেয়েছেন।


নিউহামের নতুন নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরহাদ হোসেন। তিনি লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের মূলধারার বড় রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।


রেডব্রিজেও বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের মধ্যে নয়জন লেবার পার্টি থেকে এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে ইলফোর্ডকেন্দ্রিক বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি প্রার্থীদের প্রভাব আরও বেড়েছে।


বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামেও নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের মধ্যে আটজন লেবার পার্টি এবং দুজন গ্রীন পার্টির হয়ে জয় পেয়েছেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামে নির্বাহী মেয়র পদে বাংলাদেশি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং কাউন্সিলজুড়ে বাংলাদেশি কাউন্সিলরদের ব্যাপক উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এ ছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার পার্লামেন্টারি দুটি আসনের এমপি রুশনারা আলী ও আফসানা বেগম–ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।


পূর্ব লন্ডনের বাইরে লন্ডনের অন্যান্য বরো—ইলিং, ক্রয়ডন ও ব্রেন্ট—এবং লন্ডনের বাইরে বার্মিংহামেও কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।


অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশিদের অনুপাত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। নিউহামে ৪০ থেকে ৫০ হাজার, রেডব্রিজে প্রায় ৩০ হাজার এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন প্রজন্ম এখন শুধু ভোটার নয়, বরং স্থানীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রেও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। এবারের নির্বাচন সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/15304
Page of