জিলকদ মাস: ফজিলত, তাৎপর্য ও ইবাদতের প্রস্তুতির বিশেষ সময়—হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর কলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী চান্দ্রবছরের ১১তম মাস জিলকদ (জুলকাআদাহ) হজের মাসগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় মাস এবং হারাম চার মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস। ইসলামী চিন্তাবিদ হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী তাঁর লেখায় বলেছেন, এই মাসটি ইবাদতের প্রস্তুতি, আত্মশুদ্ধি এবং অবসর সময়ে নেক আমল বৃদ্ধির বিশেষ সুযোগ এনে দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জিলকদ মাস শাওয়াল ও জিলহজের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় এটি ইবাদতের ব্যস্ততার পর কিছুটা বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় হিসেবে বিবেচিত। আরবি ভাষায় ‘জুলকাআদাহ’ শব্দের অর্থ বসা বা বিশ্রাম নেওয়া, যা থেকে এই মাসের নামকরণ হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
লেখায় বলা হয়, রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল মাস ইবাদতের ব্যস্ত সময় হিসেবে পরিচিত, আর জিলহজ ও মহররম মাসও বিশেষ আমলের মাস। এর মাঝখানে থাকা জিলকদ মাসকে আলেমরা প্রস্তুতিমূলক বিশ্রামের সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মুমিনরা পরবর্তী ইবাদতের জন্য শক্তি সঞ্চয় করেন।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী আরও উল্লেখ করেন, হারাম চার মাসের অন্যতম এই সময় আরব সমাজে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকার মাস হিসেবেও পরিচিত ছিল, যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হতো।
তিনি বলেন, এ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত না থাকলেও নফল রোজা, নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-খয়রাতসহ বিভিন্ন নেক আমল বৃদ্ধি করা উত্তম। পাশাপাশি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা, আইয়ামে বিদের রোজা এবং নফল ইবাদত পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লেখায় সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বলা হয়, সময় মানুষের জীবনের মূলধন এবং কিয়ামতের দিন প্রতিটি নেয়ার বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তাই অবসরকে নেক কাজে ব্যয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
লেখক আরও উল্লেখ করেন, জিলকদ মাসকে জিলহজ ও মহররমের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলোর ইবাদতের প্রস্তুতির সময় হিসেবে কাজে লাগানো উচিত, যাতে পরবর্তী মাসগুলোতে ইবাদত সহজ ও সুসংগঠিতভাবে পালন করা যায়।
লেখক হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, এই মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত, হজ ও কোরবানির প্রস্তুতি এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।