জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদে কে হচ্ছেন প্রশাসক? ঈদের আগেই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের শূন্যতা পূরণে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। সব কিছু ঠিক থাকলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই উপজেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকারের এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির অন্দরমহল থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: কার ভাগ্যে জুটছে প্রশাসকের চেয়ার?
হাইকমান্ডের টেবিলে সংক্ষিপ্ত তালিকা : নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে দলীয় হাইকমান্ড।
গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা এই তালিকায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক বৃহত্তর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, বর্তমান উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি দরবস্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এনায়েত উল্লাহ, সাবেক উপজেলা বিএনপি আহবায়ক সাবেক চিকনাগুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম জাকারিয়া, সাবেক সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হক,উপজেলা বিএনপি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার,উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক নিজপাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী। আলোচনায় থাকা ৮ জন প্রভাবশালী নেতার নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। তালিকায় ঠাঁই পাওয়া নেতাদের মধ্যে যেমন রয়েছেন দীর্ঘদিনের রাজপথ কাঁপানো অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিবিদ, তেমনি আধুনিক ও গতিশীল নেতৃত্ব উপহার দিতে সক্ষম ক্লিন ইমেজের নবীন নেতৃত্বও রয়েছেন।
নিয়োগের মূল মাপকাঠি ও যাচাই-বাছাই জানা গেছে, এবারের প্রশাসক নিয়োগে প্রার্থীর অতীত রেকর্ড, দলীয় আনুগত্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিটি প্রার্থীর সামাজিক অবস্থান, এলাকায় প্রভাব এবং বিগত দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি বিশেষ আমলনামা তৈরি করে নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার প্রমাণ থাকলে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে হাইকমান্ডের।
জৈন্তাপুরে তুঙ্গে জল্পনা-কল্পনা
এদিকে প্রশাসক নিয়োগের খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই জৈন্তাপুরে বইছে নির্বাচনী আমেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে পছন্দের নেতাদের নিয়ে সমর্থকদের পোস্ট ও কমেন্টের লড়াই। সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের মতে, জৈন্তাপুরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একজন দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া সময়ের দাবি। অনেকে মনে করছেন, অভিজ্ঞতার বিচারে প্রবীণরাই এগিয়ে থাকবেন, আবার একাংশ মনে করছেন পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আসা কোনো নবীন মুখই হতে পারেন আগামী দিনের কান্ডারি।
উপজেলার দায়িত্বশীল নেতা ও এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন ইতিমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে সৎ যোগ্য রাজপথে ত্যাগী ৫/৬ জন নেতার নাম নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা চলছে যিনি যোগ্য হবেন ও দলীয় হাইকমান্ড যাকে মনোনীত করবে তিনিই উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের নিয়োগ পাবেন।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ জানান আমাদের বিএনপি পরিবারের পরিক্ষিত ত্যাগী ও দায়িত্বশীল নেতাদের নামের প্রফাইল দলীয় হাইকমান্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিকট রয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের পর্যবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনীত করবেন আমরা তাকে নিয়ে কাজ করব। স্থানীয় এমপি কারো নামের তালিকা চেয়েছেন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান সিলেট ৪-আসনের সংসদ সদস্য সরকারের শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল কোন নেতার কাছে কারও নামের তালিকা চান নি। উনার কাছে প্রত্যেক উপজেলার দায়িত্বশীলদের প্রোফাইল রয়েছে। আমরা দলীয় যে সিদ্ধান্ত আসবে তা নিয়েই কাজ করব।
এ-র আগে: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ-কালের মধ্যে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে। আর ঈদের পরে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে সরকার।
উল্লেখ: আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশের ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ৬০টি জেলার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ৩২৩টি পৌরসভার মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এসব প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৪ এর ধারা ১৩(ঘ) প্রয়োগ করে বাংলাদেশের ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে স্ব-স্ব পদ হতে অপসারণ করা হলো। অপসারণকৃত চেয়ারম্যানদের স্থলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করবেন।
কবে আসছে চূড়ান্ত ঘোষণা?
প্রশাসনিক ও দলীয় ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, ঈদের আগেই যেকোনো সময় এই নিয়োগের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। শেষ মুহূর্তের এই স্নায়ুযুদ্ধে কে টিকে থাকবেন এবং কার ওপর শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখবে সরকার, তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো জৈন্তাপুরবাসী।