মুরগি চুরির ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত-৫০
ছাতক প্রতিনিধি ।।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মুরগি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টার এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত ৯ টার দিকে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের দরারপাড় ও দেওগাঁও গ্রামের লোকজন এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।
আহতরা হলেন দাড়ারপার গ্রামের চান মিয়ার পুত্র আবু বক্কর (৩৫), মড়ল মিয়ার পুত্র লোকমান মিয়া (৪৫), ফজলুল করিমের পুত্র ফয়সাল আহমেদ (২৫), আব্দুল খালিকের পুত্র লাহিন মিয়া(২২), আবুল হোসেনের পুত্র মো.সাকলাইন মিয়া (২৬), জমশেদ আলীর পুত্র গিয়াস উদ্দিন (৫০) এবং মনিরগাতি-কুম্বায়ন গ্রামের সুরত আলীর পুত্র মোঃ নাহিদ মিয়া (২০), আব্দুর রহিমের পুত্র জামাল হোসেন (৪০), আলতাব আলীর পুত্র সফর আলী (৩৫)।
গুরুতর আহতদেরকে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, দড়ারপার গ্রামের আবু বক্করের বাড়ি থেকে মনিরগাতি-কুম্বায়ন গ্রামের নোঃ নাহিদ মিয়া কয়েক বার দেশীয় মোরগ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। অদ্য রাতেও আবু বক্করের একটি মুরগি চুরি হয়। এ বিষয়ে মুরগির মালিক আবু বক্কর কুম্বায়ন গ্রামের নাহিদের বাড়িতে গিয়ে মুরগি চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদের ভাই সহ লোকজন আবু বক্কর-কে আটক করে রাখে। এ খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দড়ারপার গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ঘটনাস্থলের ছুটে যায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে নাহিদের বাড়ির সামনে উত্তেজনা বাড়ে এবং দ্রুতই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে গ্রামসংলগ্ন পাকা ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের ৫০ জন লোক আহত হয়।
খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ, জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।
এবিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সফিকুল ইসলাম খান জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।