বর্ষার পানি নামতেই জেগে উঠেছে শাল্লার হাওর, পলিমাটিতে বুনছে নতুন স্বপ্ন
হাবিবুর রহমান-হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) থেকে:
বর্ষার বিশাল জলরাশি সরে যেতেই সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলাজুড়ে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ হাওরের উর্বর পলিমাটি। দীর্ঘ কয়েক মাস পানিতে ডুবে থাকার পর মাঠজুড়ে এখন মাটি ও ফসলের নতুন সম্ভাবনা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওরাঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি। রবিশস্য চাষ, বীজতলা তৈরি ও আসন্ন বোরো মৌসুমকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষার পানি সরে যাওয়ার পর হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে পলিমাটি জমেছে। রোদ ও বাতাসের স্পর্শে ধীরে ধীরে শুকিয়ে উঠছে এসব জমি। গ্রামের উঠোন থেকে শুরু করে ক্ষেত-খামার পর্যন্ত চলছে কৃষিকাজের প্রস্তুতি। কোথাও রবিশস্য বোনার উদ্যোগ, কোথাও বীজতলা তৈরির কাজ; আবার কোথাও বোরো চাষের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা।
হাওরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর মানুষের কাছে বর্ষার পানি যেমন জীবনের অংশ, তেমনি পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে ওঠা পলিমাটিই তাঁদের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষার নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে উর্বর এই মাটিতে নতুন ফসল ফলানোর প্রত্যাশায় বুক বাঁধছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষায় হাওর পানিতে থৈ থৈ করলেও পানি নেমে যাওয়ার পর জমিতে জমা পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই মাটিতেই বোনা হবে আগামী মৌসুমের ফসল। ভালো ফলন হলে তা কৃষক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি পুরো হাওরাঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখবে।
সব মিলিয়ে বর্ষার জলরাশি সরে যাওয়ার পর শাল্লার হাওরজুড়ে এখন কৃষিকে ঘিরে নতুন কর্মচাঞ্চল্য। পলিমাটির বুকে বীজ বুনে আগামী দিনের সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন হাওরের কৃষক-কৃষাণীরা।