হবিগঞ্জে মহব্বত হত্যা: তিন বছর পর ফোনালাপে মিলল রহস্যের সূত্র, গ্রেপ্তার ৪
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মহব্বত আলী (৩৯) হত্যা মামলার প্রায় তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বতের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মাধবপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের মহব্বত আলীর সঙ্গে অভিযুক্ত শাহ আলমের ভাতিজির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মহব্বত শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শাহ আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই জাহানারা বেগম মহব্বতকে তাঁদের বাড়িতে ডেকে নেন। বাড়িতে লোকজন আসার অজুহাতে তাঁকে একটি ওয়ারড্রবের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে সেখানেই শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এরপর মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
দীর্ঘদিন ঘটনাটি আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথাকাটাকাটির সময় শাহ আলমের একটি বক্তব্য তদন্তে নতুন সূত্র তৈরি করে। ওই ফোনালাপে তিনি মহব্বতকে হত্যার কথা উল্লেখ করে হুমকি দেন বলে জানা গেছে। ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ডিবির হাতে পৌঁছানোর পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ফোনালাপের রেকর্ডের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন—রামনগর গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪)।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট মহব্বতের বাবা মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে মাদকসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও তদন্তে প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক ক্ষোভের বিষয়টি সামনে আসে।
উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিবি হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।