logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০১:১৭ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শাবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘কোরিয়ান কালচারাল ডে ২০২৬’ উদযাপন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০১:১৭ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০১:১৭ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘কোরিয়ান কালচারাল ডে ২০২৬’ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোরিয়ান সংস্কৃতি পরিচিত করে তুলতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ‘কোরিয়ান কালচারাল ডে ২০২৬’।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কোইকা বাংলাদেশ অফিস (KOICA Bangladesh Office)। এতে সহযোগিতা করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ব সম্পর্কে ধারণাকে প্রসারিত করে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি হলো বিভিন্ন জাতির মধ্যে সংযোগ তৈরির সবচেয়ে স্বাভাবিক সেতু। সংগীত, চলচ্চিত্র, মার্শাল আর্ট, চিত্রাঙ্কন ও খেলাধুলার মাধ্যমে একে অপরের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব।


তিনি আরও বলেন, কোরিয়ার টিকে থাকা ও অগ্রগতির ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মাধ্যমে একটি জাতির পরিবর্তন সম্ভব—এমন অনুপ্রেরণা দেয়। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সততা বজায় রাখা, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. জি এম রবিউল ইসলাম এবং কোইকা বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. জিওন কিম। অতিথিদের বক্তব্য শেষে বিশেষ ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়।


উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আকর্ষণীয় কার্যক্রম। এর মধ্যে বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর তায়কোয়ান্দো প্রদর্শনী দর্শকদের আকৃষ্ট করে। পাশাপাশি কোইকা ও কোরিয়ান চলচ্চিত্রবিষয়ক ওপেন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গেমসের আয়োজন করা হয়।


এ ছাড়া দিনব্যাপী কোরিয়ান সংস্কৃতিবিষয়ক প্রদর্শনী বুথ, ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান চিত্রাঙ্কন এবং বিশেষ ফটোবুথে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কোরিয়ার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনজগৎ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।


দুপুর আড়াইটায় সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। এ পর্বে অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী বক্তব্য দেন কোইকা বাংলাদেশ অফিসের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. সিওং কিহুন।


অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ও আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18488
Page of