logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সারাদেশে ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

বাবা নেই, পোশাকশ্রমিক বোনের ঘামে স্বপ্নপূরণ, উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন আরাফাত।

বাবার মৃত্যুর পর বন্ধ হওয়ার উপক্রম পড়াশোনা, পোশাকশ্রমিক বোনের ত্যাগে উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন আরাফাত
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন সারাদেশে
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
বাবা নেই, পোশাকশ্রমিক বোনের ঘামে স্বপ্নপূরণ, উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন আরাফাত।

অনলাইন ডেস্ক :

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় পড়াশোনা, থমকে যেতে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন। এমন কঠিন সময়ে বড় বোনের আত্মত্যাগ ও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে সেই প্রতিকূলতা জয় করেছেন মো. আরাফাত খান। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই অর্জন করেছেন জিপিএ-৫।


আরাফাতের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, পরিশ্রম আর বড় বোনের অসামান্য অবদান। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান তাঁর বাবা মো. ইসমাইল খান। এরপর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা। একসময় পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়েছিল আরাফাতকে।


তবে কঠিন সেই সময়ে ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। সংসারের খরচ জোগাতে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি ছোট ভাইয়ের পড়াশোনাও চালিয়ে যান।


পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা আরাফাত পড়াশোনা করেছেন আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজে। বাবাকে হারানোর পর একসময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু বড় বোনের সাহস, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা তাঁকে আবারও পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনে।


নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আরাফাত বলেন, বাবাকে হারানোর পর তাঁর জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সব স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে যায়। ভেবেছিলেন, আর হয়তো লেখাপড়া হবে না। কিন্তু সেই দুঃসময়ে বড় বোন ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়।


বোনের অবদানের কথা উল্লেখ করে আরাফাত আরও বলেন, পোশাকশ্রমিকের কঠিন কাজ করেও বড় বোন যেভাবে তাঁকে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবেন না।


নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরাফাত জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন তাঁর। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।


অন্যদিকে ছোট ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত বড় বোন রুবি আক্তার। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের কষ্টের কথা ভুলে ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।


রুবি আক্তার বলেন, বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল তাঁকেই ধরতে হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের খরচ জোগাতে কঠিন কাজ করতে হচ্ছে। আরাফাত মেধাবী হলেও তাঁর জন্য তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তিই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।


আরাফাতের এই অর্জনে আনন্দিত তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি শুধু নিজের নয়, পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রামকেও সাফল্যে রূপ দিয়েছেন।


বাবার অভাব, আর্থিক সংকট আর প্রতিকূলতার মধ্যেও বড় বোনের ত্যাগ ও নিজের অধ্যবসায়ে অর্জিত এই সাফল্য এখন আরাফাতের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাঁর স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে একদিন শিক্ষক হওয়া।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/18487
Page of