ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বিচার দাবিতে সিলেটে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতেই দুই সাংবাদিকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, গোটা সিলেটবাসীর ওপর আঘাত। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেটবাসীর সম্পদ। সেখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশৃঙ্খলা ও মাস্তানি বরদাশত করা হবে না।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ওসমানী হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদার হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ প্রতিবাদ সমাবেশ কেবল সাংবাদিকদের নয়, বরং পুরো সিলেটবাসীকে জাগ্রত করার সমাবেশ। অতীতে ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন আন্দোলনের সময় সাংবাদিকেরা তাঁদের দাবির পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। অথচ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেই সাংবাদিকদেরই হামলার শিকার হতে হয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে রোগীদের জিম্মি করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালকে কোনো গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব কিংবা বিশৃঙ্খলার জায়গায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অতীতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন দ্রুত ভূমিকা নিলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। হামলার বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও বাড়বে।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে হাসপাতাল প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। গত বুধবার দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, কোনো আপসকামী সমাধান নয়; সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বৈঠকে বসে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেটের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ূন কবির লিটন এবং সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ রনি প্রমুখ।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাব ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সিলেট কল্যাণ সংস্থা ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান মুকিত রহমানী, দৈনিক উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসিন, চয়ন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সজল ঘোষ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রেজাউল হক ডালিম, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ জামিল, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিলকিস আক্তার সুমি, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কাওসার চৌধুরী।
এ ছাড়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা সমাবেশে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে অধ্যক্ষ মকসুদ আহমদ, দৈনিক কাজিরবাজারের বার্তা সম্পাদক সোয়েব বাসিত, সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, সাংবাদিক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, আধুনিক কাগজের প্রকাশক সাঈদ চৌধুরী টিপু, আজকের সিলেটের সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিক, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি