পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান শাবিপ্রবি শিক্ষক ড. আনোয়ারুল ইসলামের
শাবিপ্রবি শিক্ষক ড. আনোয়ারুল ইসলাম: শিশুবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন
সিলেট : শিশুবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারলে আগামী প্রজন্ম দূষিত পরিবেশের নানা ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও গ্রাম ও শহরকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেটের দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে বাংলাদেশ পরিবেশ গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুস্থ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।
পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবেশ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে মানুষ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকিতে পড়বে। এ জন্য পরিবেশবিষয়ক গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দিন দিন হাওর-বিলসহ বিভিন্ন জলাভূমি সংকুচিত হচ্ছে। হাওর, বিল, নদী-নালা ও পাহাড়সহ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা জরুরি। এসব সম্পদ ধ্বংস ও দূষণের শিকার হলে আলো-বাতাসসহ সামগ্রিক পরিবেশ দূষিত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী পরিবেশ রক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক সিলেটের ডাকের সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি পরিবেশ রক্ষাকে সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশবিষয়ক উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে সচেতনতা সৃষ্টি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন রোটারিয়ান এম এ এম সজিব।
নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
বাংলাদেশ পরিবেশ গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল মুক্তাদীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক তাজ উদ্দিন আহমদ মাসুম।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন—সহসাধারণ সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও মো. আজিজুজুর রহমান জয়নাল; সহসাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জসিম উদ্দিন; সহঅর্থ সম্পাদক মিলাক আহমদ; প্রচার সম্পাদক মো. শাহিন আলম; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহিনূর রহমান; সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহমদ; সমাজসেবা সম্পাদক মো. সুহেব আহমদ; ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হোছাইন মো. মোহাম্মদ আলমগীর; পরিবেশ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম; দপ্তর সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক মো. লায়েক মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণা, জনসচেতনতা, বৃক্ষরোপণ এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।