পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ড্রোন নজরদারি, মাধবপুরসহ তিন জেলায় ৩৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে ৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন।
বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের আওতাধীন তিনটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২৩৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) আওতাধীন ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বিএম তৌহিদ হাসান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল সেক্টরের আওতাধীন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি), বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) ও হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এলাকার সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২০৬টি এবং ইউনিট সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ৩১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১৬ অক্টোবর থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সেক্টর কমান্ডার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পূজা উদযাপনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি মণ্ডপের সভাপতির হাতে বিজিবির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন। এ সময় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কর্নেল বিএম তৌহিদ হাসান বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল সেক্টরের আওতাধীন তিনটি ব্যাটালিয়নের অভিযানে ৮৭ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ১১৪ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, গাঁজা ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সেক্টর কমান্ডার আরও বলেন, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি পূজামণ্ডপ। দুর্গম এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি ভিত্তিশিবির স্থাপন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সমন্বয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ।
পূজার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন কর্নেল তৌহিদ হাসান। তিনি গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন বিজিবির এই সেক্টর কমান্ডার। একই সঙ্গে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।