সৌদিতে ‘বিক্রি’ হওয়ার অভিযোগ, দেশে ফেরার অপেক্ষায় রেহেনা—বৃহস্পতিবার ফিরছেন বাড়ি
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ভিসায় গিয়ে বিপাকে পড়া হবিগঞ্জের মাধবপুরের রেহেনা খাতুন অবশেষে দেশে ফিরছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে থাকা রেহেনাকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দেশে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি। তাঁর বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে।
রেহেনা মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা। প্রায় দুই মাস আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবের জেদ্দায় যান তিনি।
সৌদি আরবে যাওয়ার পর অতিরিক্ত কাজ করানো, সময়মতো খাবার না দেওয়া এবং বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে গত ৩ অক্টোবর গোপনে একটি ভিডিওবার্তা পাঠান রেহেনা। ওই ভিডিওবার্তায় তিনি নিজেকে বিপদের মধ্যে থাকার কথা জানিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চান।
রেহেনার অভিযোগ, দেশে ফেরার জন্য সৌদি আরবের একটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ‘বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে’ বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁর ভিডিওবার্তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে।
এরপর গত ৫ অক্টোবর রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দিয়ে রেহেনাকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।
এদিকে ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, রেহেনাকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁকে দেশে ফেরানো হবে বলে জানান তিনি।
তবে রেহেনার পরিবারের পক্ষ থেকে জেনিয়া ওভারসিসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, রেহেনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জেনিয়া ওভারসিস সহযোগিতা করেছে এবং এ জন্য তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কৃতজ্ঞ।
রেহেনার স্বামী আলী আহমদ জানিয়েছেন, স্ত্রী দেশে ফেরার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তাঁর পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ হয়নি বলে দাবি করে তা আদায়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার পর রেহেনার দেশে ফেরার খবরে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবারে। এখন তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।