সদকা সম্পদ কমায় না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বরকত লাভের মাধ্যম: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামে সদকা বা দান-সদকার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দানশীলতার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ মাফ এবং আখিরাতের সওয়াব লাভের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয় করাকে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী তাঁর আলোচনা ও লেখনিতে সদকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানুষের উচিত হালাল উপার্জন থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে দান করা এবং অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি একটি সৎকাজ করবে, সে তার দশগুণ প্রতিদান পাবে। আর সূরা আল-বাকারাহর ২৬১ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পথে ব্যয় করার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এক দানের প্রতিদান সাতশ গুণ বা তারও বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, দান-সদকা শুধু আখিরাতের সওয়াব অর্জনের মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধও বৃদ্ধি পায়। অসহায় মানুষের প্রয়োজন পূরণে সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, অনেকের ধারণা, দান করলে সম্পদ কমে যায়। কিন্তু হাদিসে এসেছে, ‘সদকা সম্পদ কমায় না।’ সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ কথা বলেছেন। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করা সম্পদ প্রকৃত অর্থে ক্ষতির কারণ নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান ও বরকতের প্রত্যাশা করা যায়।
ইসলামী শিক্ষায় সদকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো গুনাহ মোচনের সুযোগ। হাদিসে সদকাকে পানির মাধ্যমে আগুন নিভিয়ে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুমিনকে দান ও কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সদকার মধ্যে এমন কিছু দান রয়েছে যার উপকার ও সওয়াব মানুষের মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকতে পারে। ইসলামী পরিভাষায় এটিকে সদকায়ে জারিয়া বলা হয়। জনকল্যাণমূলক স্থাপনা, পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা ও কল্যাণমূলক কাজে এমন দান মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সওয়াবের কারণ হতে পারে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত দান-সদকা করতে হবে। বিশেষ করে গরিব, অসহায়, এতিম ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, লোকদেখানো নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আন্তরিকভাবে দান করা উচিত। দানের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন, নিয়ত ও মানুষের প্রকৃত প্রয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট; প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। তিনি সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর সিলেটের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ সুরমার সাবেক প্রধান শিক্ষক।