১৩ প্যাকেজের ৮টি এগোচ্ছে, ৫টিতে ধীরগতি—ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিয়ে সড়কমন্ত্রী
হবিগঞ্জ:
জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জের মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। মহাসড়কটি ফোর লেনের পাশাপাশি উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ মোট ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে ছিল না।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২৭ শতাংশ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের অগ্রগতি প্রায় ৩৯ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মোট ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে আটটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তবে পাঁচটি প্যাকেজের কাজ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যেসব এলাকায় কাজের গতি কম কিংবা অগ্রগতিতে বিচ্যুতি রয়েছে, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ, বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্থাপনা, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং মামলা-মোকদ্দমাসহ বিভিন্ন জটিলতা প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব জটিলতা নিরসন করে নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আশুগঞ্জ-সরাইল অংশের কাজও এগিয়ে চলছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ভারতের সহযোগিতায় এলওসির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজের অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ। একপর্যায়ে কাজটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পর এখন তা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চলমান বড় প্রকল্পের কারণে সাময়িকভাবে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করাই এ দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। জনগণের প্রত্যাশা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে মহাসড়কটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজরুল করিমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে মূল চার লেনের পাশাপাশি উভয় পাশে সার্ভিস লেন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়বে।