logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন, হাড়গোড় তুলে অন্যত্র দাফন করছেন স্বজনরা

নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে শিমুলতলার শত বছরের ঐতিহাসিক কবরস্থান

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন
নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে শিমুলতলার শত বছরের ঐতিহাসিক কবরস্থান

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কবরস্থানটি নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খাশিয়ামারা নদীর একটি উপশাখার অব্যাহত ভাঙনে কবরস্থানের একাধিক অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো কবরস্থানটি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত শিমুলতলা গ্রামের এই কবরস্থানের বেশ কিছু অংশ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোনো কোনো কবর ভেঙে হাড়গোড় ও কঙ্কাল বের হয়ে আসায় স্বজনরা সেগুলো তুলে অন্যত্র দাফন করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় একশ বছর আগে শিমুলতলা গ্রামসহ আশপাশের এলাকার মানুষের উদ্যোগে কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে কয়েক প্রজন্মের মানুষ এখানে সমাহিত হয়েছেন। ফলে কবরস্থানটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, স্থানীয় মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও পূর্বপুরুষদের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্যও।


দেশ-বিদেশে অবস্থানরত গ্রামের মানুষ বাড়িতে এলে স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে এই কবরস্থানে ছুটে আসেন। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে একের পর এক কবর বিলীন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।


শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অতীতে প্রতিবছর স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশ ও গাছের সাহায্যে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হতো। তবে বর্তমানে আগের মতো সম্মিলিত উদ্যোগ না থাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে কবরস্থানের পাশাপাশি পুরো গ্রামের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন বলেন, কবরস্থানটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এখানে শত শত মানুষ চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। অনেক পরিবার স্বজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে নদীভাঙনের কবল থেকে হাড়গোড় ও কঙ্কাল তুলে অন্যত্র দাফন করছেন। জরুরি ভিত্তিতে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা না হলে পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত কবরগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।


স্থানীয় বাসিন্দা মইনূল হক বলেন, ‘চোখের সামনে শত শত কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। দৃশ্যটি দেখলে খুব কষ্ট হয়। হয়তো আমরাও একদিন এই কবরস্থানে শায়িত হবো। আমাদের কবরও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’


সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-আর-রশীদ বলেন, কবরস্থান মানুষের পার্থিব জীবনের শেষ ঠিকানা। নদীভাঙনে এটি বিলীন হচ্ছে শুনে তিনি ব্যথিত। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।


এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, শিমুলতলা কবরস্থান নদীভাঙনের কবলে পড়ার বিষয়টি তিনি প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছেন। তিনি কবরস্থানটি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি দেখবেন এবং প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।


স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক এই কবরস্থান রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি বহনকারী কবরস্থানটি অদূর ভবিষ্যতে সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17646
Page of